জন্ম-পরবর্তী জন্ডিস কী

বিলুরুবিনের কারণে চামড়ায় এবং চোখের সাদা অংশে হলুদ ভাব থাকলে জন্ম-পরবর্তী জন্ডিস হয়েছে বলা যেতে পারে। এক জন সদ্যোজাতের একটি নির্দিষ্ট মাত্রা অবধি জন্ডিস স্বাভাবিক। রুক্তে লোহিত কণার ভাঙনের ফলে (যার ফলে রক্তে বিলিরুবিন প্রবেশ করে) এবং নবজাতকের যকৃৎ-এর অসম্পূর্ণতার কারণে (কার্যকর ভাবে বিলিরুবিন বিপাক এবং প্রস্রাবের মধ্যে দিয়ে রেচনের জন্য এটিকে প্রস্তুত করতে পারে না) এই সমস্যা দেখা দেয়। সদ্যোজাতের স্বাভাবিক জন্ডিস সাধারণত দেখা যায় জন্মের দ্বিতীয় এবং পঞ্চম দিনে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা আস্তে আস্তে দূর হয়ে যায়। নবজাতকের জন্ডিসকে হাইপারবিলিরুবিনেমিয়া এবং শারীরবৃত্তীয় জন্ডিস হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে। এই জন্ডিস স্বাভাবিক জন্মের ক্ষেত্রে ৮ দিন এবং মেয়াদের পূর্বে জন্মের ক্ষেত্রে ১৪ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে।

এর লক্ষণগুলি হল
হলুদ চামড়া
চোখের সাদা অংশ ও নখ হলুদ
শিশুর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় ধরে ঘুমিয়ে থাকা
যত্ন
জন্ডিস হালকা হলে এটি ১০ দিনের মধ্যেই নিজে থেকে সেরে যাবে। যাই হোক, এর তীব্রতা হ্রাস করার জন্য এই চিকিৎসা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক —

বারে বারেই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো
খাট বা ক্রাডলটি জানলার পাশে এনে জানলায় পাতলা পর্দা দিয়ে পরোক্ষ ভাবে শিশুকে সূর্যালোক খাওয়ানো
নবজাতককে বিলি লাইটের (একটি ফোটোথেরাপি যন্ত্র) নীচে রাখতে হবে। উচ্চমাত্রায় রঙিন আলো বিলিরুবিনকে ভেঙে দেবে। এ জন্য সাধারণত নীল আলো ব্যবহার করা হয়। তবে সবুজ আলো বিলিরুবিন ভাঙতে আরও সক্রিয় ভাবে কাজ করে। কিন্তু এতে শিশু অসুস্থ হয়ে যায় বলে একে সাধারণ ভাবে ব্যবহার করা হয় না।
অবস্থা খুব খারাপ হলে রক্ত দিতে হয়
এই হলুদ ভাব কাটানোর জন্য যকৃৎ-উদ্দীপক ওষুধ দেওয়া হয়
দ্রষ্টব্য: জন্ডিস যদি ২ সপ্তাহ পরেও চলতে থাকে, তা হলে গ্যালাকটোসেমিয়া এবং জন্মগত হাইপোথাইরয়েডিজমের জন্য নবজাতকের বিপাকীয় পর্দা পরীক্ষা করা উচিত। শিশুর ওজনের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পারিবারিক ইতিহাস যাচাই করা উচিত। এর সঙ্গে মলের রঙেরও পরীক্ষা করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are makes.