Child Health Services, disease

শিশুদের হাঁপানির লক্ষণ ও রোগ নির্ণয়

হাঁপানির টানে যে হেতু শ্বাসনালি সরু হয়ে যায়, বাচ্চার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, বুকে চাপ ধরে ও কাশি হয়, সঙ্গে অদ্ভুত একটা সোঁ সোঁ আওয়াজ হয়।
সোঁ সোঁ আওয়াজ তীব্র কম্পাঙ্ক যুক্ত একটি আওয়াজ, যেটা বাচ্চার শ্বাস নেওয়ার সময় শোনা যায়।
যদিও সমস্ত হাঁপানির টানেই সোঁ সোঁ আওয়াজ হয় না। অল্প হাঁপানি, বিশেষত কমবয়সি বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র কাশির সৃষ্টি করতে পারে। বেশি বয়সের বাচ্চাদের যাদের অল্প হাঁপানি আছে, তাদের কাশি হতে পারে শুধুমাত্র ব্যায়াম করলে অথবা ঠান্ডা হাওয়ার সংস্পর্শে এলে। আবার, মারাত্মক রকমের হাঁপানি আছে এ রকম বাচ্চাদেরও সোঁ সোঁ আওয়াজ না-ও হতে পারে কারণ শ্বাসনালি দিয়ে বেরোনো বাতাস আওয়াজ করার পক্ষে কম হয়। খুব বাড়াবাড়ি রকম টানের ক্ষেত্রে শ্বাস নেওয়া দৃশ্যতই খুব কষ্টকর হয়ে ওঠে।
সোঁ সোঁ আওয়াজ জোরে হতে থাকে, বাচ্চা খুব তাড়াতাড়ি এবং জোর দিয়ে শ্বাস টানতে থাকে এবং যখন বাচ্চা শ্বাস টানে (প্রশ্বাসের সময়ে), বুকের পাঁজরগুলি যেন বেরিয়ে আসে।
খুব সাঙ্ঘাতিক রকম টানের সময়ে, বাচ্চা শ্বাস নেওয়ার জন্য ছটফট করতে থাকে এবং সামনের দিকে ঝুঁকে সোজা হয়ে বসে। চামড়া ঘর্মাক্ত হয় এবং পাণ্ডুর বাঁ নীলচে হয়।
যে সব বাচ্চার ঘন ঘন খুব বাড়াবাড়ি রকমের টান হয়, তাদের কখনও কখনও বৃদ্ধি ধীর হয়। কিন্তু সাধারণত বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বৃদ্ধি অন্যান্য বাচ্চাদের মতনই হয়ে যায়।

রোগ নির্ণয়
কোনও বাচ্চার বারে বারে সোঁ সোঁ করে আওয়াজের ঘটনা ঘটলে, বিশেষত যদি তার পরিজনদের কারও হাঁপানি বা অ্যালার্জি আছে বলে জানা থাকে, তবে ডাক্তারবাবু বাচ্চার হাঁপানি থাকতে পারে বলে সন্দেহ করেন।
ডাক্তারবাবু সাধারণত এক্স-রে করতে বলেন এবং কখনও কখনও কারণ জানার জন্য অ্যালার্জি টেস্টও করান।
ঘন ঘন সোঁ সোঁ আওয়াজ করে এমন বাচ্চাদের অন্যান্য সমস্যা, যেমন সিস্টিক ফাইব্রোসিস বা গ্যাস্ট্রোইসোফিগাল রিফ্লাক্স ইত্যাদি আছে কিনা জানার জন্য পরীক্ষা করা হতে পারে।
বেশি বয়সের বাচ্চাদের অনেক সময় পালমোনারি ফাংশন টেস্ট (পিএফটি) করা হয়, যদিও বেশির ভাগ বাচ্চার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ির মাঝামাঝি সময়ে পালমোনারি ফাংশন স্বাভাবিক থাকে।
একটু বেশি বয়সের বা বয়ঃসন্ধির বাচ্চাদের যাদের হাঁপানি আছে, তারা প্রায়শই শ্বাসনালির বাধার পরিমাণ মাপার জন্য পিক ফ্লো মিটার (একটি ছোট যন্ত্র, যা কোনও ব্যক্তি কত জোরে ফুঁ দিতে পারে তা মাপতে পারে) ব্যবহার করে। ডাক্তাররা এবং বাবা-মায়েরা টানের সময়ে এবং দু’টি টানের মধ্যবর্তী সময়ে বাচ্চার অবস্থা বোঝার জন্য এই পরিমাপের সাহায্য নিতে পারেন। হাঁপানি আছে জানা থাকলে ডাক্তাররা এক্স-রে করান না, যদি না তিনি নিউমোনিয়া বা ফুসফুসের গণ্ডগোল সন্দেহ করেন।

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20