Child Health Services, disease

শিশুদের হাঁপানি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

প্রতিরোধ
অর্ধেক বা তার বেশি সংখ্যক বাচ্চাদের হাঁপানি বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেরে যায়। যাদের ক্ষেত্রে রোগটি বাড়াবাড়ি রকমের আছে, বড় হওয়ার পরেও তাদের রোগটি থেকে যাওয়ারই সম্ভাবনা। রোগের প্রকোপ থেকে যাওয়ার এবং পুনরাবৃত্তি হওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে আছে ধূমপান, কম বয়সে হাঁপানি হওয়া এবং বাড়ির ধূলিকণায় সংবেদনশীলতা।
বাচ্চাদের ক্ষেত্রে উদ্দীপক পদার্থ এড়াতে পারলে হাঁপানির বাড়াবাড়ি আটকানো যায়। অ্যালার্জি থাকা বাচ্চাদের অভিভাবককে সাধারণত পালকের বালিশ, কার্পেট, ঝালর লাগানো জামাকাপড়, ধুলোপড়া আসবাবপত্র, তুলো ভর্তি খেলনা এবং যে সব জায়গায় ধুলো হতে পারে সেগুলো বর্জন করতে পরামর্শ দেওয়া হয়।
যে বাচ্চার হাঁপানি আছে, পরোক্ষ ধূমপান প্রায়শই তার লক্ষণগুলি প্রকট করে তোলে। তাই যে এলাকায় শিশুটি সময় কাটায়, সেখানে ধূমপান করা বন্ধ করা দরকার। যদি কোনও একটি বিশেষ অ্যালারজেন এড়ানো সম্ভব না হয়, ডাক্তারবাবু অ্যালার্জি প্রতিরোধকারী ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে শিশুটির ওটির প্রতি সংবেদনশীলতা কম করাতে পারেন, যদিও হাঁপানিতে এর উপকারিতার কথা খুব একটা ভালো জানা নেই।
যে হেতু ব্যায়াম একটি বাচ্চার বিকাশের পক্ষে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, ডাক্তারবাবুরা সাধারণত বাচ্চাদের শারীরিক কাজকর্ম, শরীরচর্চা এবং খেলাধূলায় অংশগ্রহণ চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেন এবং শরীরচর্চার আগে হাঁপানির ওষুধ ব্যবহারের নির্দেশ দেন।

চিকিৎসা
প্রচণ্ড রকম টানের ক্ষেত্রে চিকিৎসা হ’ল

শ্বাসনালী উন্মুক্তকরণ (ব্রঙ্কোডাইলেশন) এবং প্রদাহ বন্ধ করা

শ্বাসগ্রহণের সঙ্গে নেওয়া অনেক রকম ওষুধ শ্বাসনালি খুলে দেয়। বেশি বয়সের ও বয়ঃসন্ধির বাচ্চারা সাধারণত মিটার্ড-ডোজ ইনহেলার ব্যবহার করতে পারে। ৮ বছর বা তার কম বয়সি বাচ্চাদের সাধারণত স্পেসার লাগানো বা ধরে রাখার প্রকোষ্ঠযুক্ত ইনহেলার ব্যবহার করা সুবিধাজনক।
শিশু ও খুব কমবয়সি বাচ্চারা কখনও কখনও ইনহেলার ও স্পেসার ব্যবহার করতে পারে যদি শিশুর মাপের একটি মাস্ক তাতে লাগানো থাকে। যারা ইনহেলার ব্যবহার করতে পারে না তারা বাড়িতে নেবুলাইজারের সঙ্গে একটি মাস্ক লাগিয়ে তার মাধ্যমে এই ওষুধ গ্রহণ করতে পারে। নেবুলাইজার হ’ল একটি ছোট যন্ত্র যা উচ্চচাপে থাকা বাতাসের দ্বারা ওষুধের একটা ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে। ওষুধ শরীরে প্রবেশ করানোর জন্য ইনহেলার ও নেবুলাইজার দু’টিই খুব কার্যকর। ওষুধ মুখ দিয়ে খেয়েও নেওয়া যায়, যদিও টানার থেকে এই পদ্ধতি কম কার্যকর এবং সাধারণত শিশুরা, যাদের নেবুলাইজার থাকে না, তারাই এই পদ্ধতি ব্যবহার করে। যে সব বাচ্চার মাঝারি থেকে তীব্র টান হয়, তাদেরও কর্টিকোস্টেরয়েড মুখ দিয়ে খাওয়ানো হতে পারে।
যে সব বাচ্চার সাঙ্ঘাতিক টান হয়, তাদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রথমেই অন্তত ২০ মিনিট ধরে নেবুলাইজার অথবা ইনহেলারের মধ্যে ব্রঙ্কোডাইলেটর দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। সাঙ্ঘাতিক টান ওঠা বাচ্চাদের যদি এই ওষুধ কাজ না করে, তবে অনেক সময় ডাক্তাররা এপিনেফ্রিন (একটি ব্রঙ্কোডাইলেটর) ইঞ্জেকশন দেন। ডাক্তাররা সাধারণত প্রচণ্ড টান ওঠা বাচ্চাদের শিরার মধ্যে দিয়ে কর্টিকোস্টেরয়েড ওষুধ দেন।
যে সব বাচ্চার হাল্কা, অল্পসল্প টান ওঠে, তারা সাধারণত কেবলমাত্র টানের সময়েই ওষুধ নেয়। যে সব বাচ্চার ঘন ঘন এবং সাঙ্ঘাতিক রকমের টান ওঠে তাদেরও ওষুধ নিতে হয়, এমনকী যখন টান থাকে না তখনও। টানের তীব্রতা এবং সংখ্যার ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। যে সব বাচ্চার কখনওসখনও খুব অল্প টান ওঠে, তারা সাধারণত টান থেকে বাঁচার জন্য প্রতি দিন অল্প মাত্রার কর্টিকোস্টেরয়েড শুঁকে নেয়। যে সব রাসায়নিক পদার্থ নিঃসারিত হয়ে শ্বাসনালির প্রদাহ সৃষ্টি করে, এই সব ওষুধ ওই সব রাসায়নিক পদার্থ আটকে সেই প্রদাহ কমায়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওষুধের মাত্রা কমানো বাড়ানো হয় যাতে বাচ্চার হাঁপানির লক্ষণগুলিকে ঠিকঠাক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং সাঙ্ঘাতিক টান ঠেকানো যায়। যদি এই ওষুধগুলি সাঙ্ঘাতিক টান ঠেকাতে না পারে, তবে বাচ্চাকে কর্টিকোস্টেরয়েড মুখে খেতে হতে পারে। যে সব বাচ্চার ব্যায়াম করার সময়ে টান ওঠে, তারা সাধারণত ব্রঙ্কোডাইলেটরের একটি ডোজ ব্যায়াম করার ঠিক আগে টেনে নেয়।
যে হেতু হাঁপানি দীর্ঘস্থায়ী একটি অবস্থা এবং এর অনেক রকম চিকিৎসা হয়, ডাক্তাররা বাবা-মায়ের সঙ্গে এবং বাচ্চার সঙ্গে পরামর্শ করে নিশ্চিত হন যে কী ধরনের সমস্যা রয়েছে তা তাঁরা ঠিকঠাক বুঝেছেন।
বাবা-মা এবং ডাক্তারদের উচিত বিদ্যালয়ে শিক্ষক এবং অন্যদের বাচ্চার অবস্থা সম্পর্কে এবং কী ওষুধ দেওয়া হচ্ছে তা জানিয়ে রাখা। কিছু কিছু বাচ্চাকে বিদ্যালয়ে প্রয়োজনমতো ইনহেলার ব্যবহার করতে দেওয়া যেতে পারে এবং অন্যদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি বিদ্যালয়ের ডাক্তার দেখাশোনা করবেন।

Please follow and like us: